সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? ( What are the home remedies for nasal congestion in cold? )
বিভিন্ন সময়-অসময়ে আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ করেই আমাদের নাক বন্ধ হয়ে যায়। আর তা জানতে আমাদের সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? জানতে হবে।
যদিও এই সামান্য কারণে অনেকেই সর্দি-জ্বর-কাশি হলে ওষুধ খেয়ে থাকে, কিন্তু সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? বা কীভাবে ঘরোয়া উপায়েও এই সমস্ত রোগের চিকিৎসা করা যায়, যা নিম্নে প্রদত্ত হলো:
পোস্ট সূচিপত্র: সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী?
নাক বন্ধ হওয়ার উপসর্গগুলি কী কী?
কি কি কারণে নাক বন্ধ হয়ে থাকে
নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিকিৎসা
নাক বন্ধের ঘরোয়া চিকিৎসাসমূহ কী কী হতে পারে
জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
শেষ কথা : সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী
নাক বন্ধ হওয়ার উপসর্গগুলি কী কী?
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? এর মধ্যে অবশই উপসর্গগুলি জানাটা প্রয়োজন-
নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায়শই সাধারণ ঠান্ডা লাগা অথবা সাইনাস সংক্রান্ত সমস্যার নানা উপসর্গগুলির মধ্যে একটি অংশ, বলা যায়-
অতিরিক্ত শ্লেষ্মা তৈরি হওয়া
নাকের ভিতর গুমোট অনুভব করা
নাক দিয়ে জল পড়া
শ্বাস নেয়ার অসুবিধা
সাইনাসের চাপ বা সাইনাসের সংক্রমণের জন্য মুখের ব্যথা
নাকের ভিতর গুমোট অনুভব করা
নাক দিয়ে জল পড়া
শ্বাস নেয়ার অসুবিধা
সাইনাসের চাপ বা সাইনাসের সংক্রমণের জন্য মুখের ব্যথা
কি কি কারণে নাক বন্ধ হয়ে থাকে:
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? আলোচ্য বিষয়ে আমাদের জানতে হবে কী কী কারণে নাক বন্ধ হয়ে থাকে-
- সাধারণত নাকে ঝিল্লির প্রদাহ এবং নাসারন্ধ্রের অবরুদ্ধতার অনেক কারণ থাকতে পারে:
- সাধারণ ঠাণ্ডা লাগা
- ফুলু অথবা সাইনাসের সংক্রমণ
- অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসা
- অ্যালাজির সঙ্গে সম্পর্কিত হাঁচি
- মশলাদার খাবার খাওয়া
- মদ্যপান করা
- উত্তেজনা বা উদ্বেগ
- সিগারেট খাওয়া অথবা শিল্পজাত ধোঁয়া প্রশ্বাসের মাধ্যমে ভেতরে নেয়া
- নাকের অঙ্গসংস্থানগত সমস্যা, যেমন-বিচ্যুত নাসামধ্য পর্দা
- ডিকঞ্জেস্ট্যান্টের অতিরিক্ত ব্যবহার
আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
- ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থের সংস্পর্শে আসা
- নাসাপথে সৃষ্ট পলিপ
- হরমোনের পরিবর্তন
- শ্বাসকষ্ট
- রক্তচাপ, সিজার এবং ডিপ্রেশনের জন্য ব্যবহৃত কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ
নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার চিকিৎসা:
সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? বা নাক বন্ধ থাকার কারণটি চিকিৎসক খুঁজে বের করার পরামর্শ হিসেবে তিনি বেশ কিছু চিকিৎসার বিকল্প ব্যবস্থা দিতে পারেন, যেমন-নাকের স্প্রে, অ্যালার্জির জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন, ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক, ওটিসি ওষুধ এবং ব্যথা উপশমকারী ওষুধ।
নাক বন্ধের ঘরোয়া চিকিৎসাসমূহ কী কী হতে পারে:
- সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? বলতে আমাদের একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে এর মধ্যে একটি মাইক্রোফাইবার তোয়ালে বা রুমাল ডুবিয়ে ভালো করে চিপে নিতে হবে। এই রুমাল দিয়ে নাকে-মুখে দিয়ে রাখতে হবে ৫-১০ মিনিট। সারা দিনে ৩-৪ বার এ পদ্ধতি ব্যবহার করার ফলে আপনার বন্ধ নাক অনেকটা কেটে যাবে ও স্বস্তি পাবেন।
- গরম পানিতে এক চা-চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করতে পারেন। এই পানীয় দিনে দুইবার পান করতে পারেন। সাধারণত ভিনেগারে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং পটাশিয়াম বন্ধ নাক খুলতে, বুকের কফ অপসারণ এবং ভাইরাস দূর করতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন: জেনে নিন কাঁচা ছোলা খাওয়ার যত উপকারিতা
- এক গ্লাস পানিতে আধা চা-চামচ লবণ দিন। এবার নাক দিয়ে এ পানি টেনে ভেতরে নিন। চাইলে দিনে ২-৩ বার এটা করতে পারেন। আবার ড্রপের সাহায্যেও নাকে দিতে পারেন। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন ২-৩ ফোটার বেশী নয়।
- নাকের মিউকাস পরিস্কোর করতে গ্রিন টি যথেষ্ট উপকারী। এতে নাক পরিস্কার হওয়ার পাশাপাশি শরীর থেকে টক্সিনও দূর হয়ে যায়।
- সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? হিসেবে বন্ধ নাক খুলতে ভালো কাজ করে গোলমরিচ। হাতের তালুতে অল্প একটু গোলমরিচ গুড়া নিয়ে সামান্য শর্ষের তেল দিন। আঙুলে লাগিয়ে নাকের কাছে ধরুন। এতে হাঁচি হতে পারে, তবে নাক ও মাথার জমাটভাব কেটে যাবে।
- আপনি যদি এক কাপ টমেটোর রস, এক টেবিল চামচ রসুন কুচি, এক টেবিল চামচ লেবুর রস, ঝাল সস ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে চায়ে মিশিয়ে দিনে দুইবার খেতে পারেন। এতে করে ঠাণ্ডা, কাশি ও নাক বন্ধভাব দ্রুত কেটে যাবে।
- আমলকী বা আমলকীর রস এর সঙ্গে সামান্য পরিমাণে পাতি লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন। আবার শুধু আমলকীর রস খেতে পারেন বা কাঁচা চিবিয়েও খেতে পারেন। এতে করে গলা ব্যথা ও সর্দিতে আমার পাওয়া যাবে।
- সর্দি-কাশি বা জ্বর হলে খেতে পারেন লেবু ও আদার রস মেশানো চা। এক্ষেত্রে কাশির সমস্যা সমাধানে আদার রস খুবই কার্যকর হবে। অর্থাৎ, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? হিসেবে উপরোক্ত পরামর্শটি যথেষ্ট কার্যকর।
- শীতকালে প্রতিদিন যদি গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন। এই পানীয় পানে শরীর থাকে ভালো। গরম দুধে হলুদের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন সামান্য গোলমরিচ ও মধু। এই পানীয় পানে শীতে শরীর রাখে গরম।
জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী:
=> সদ্যোজাতদের কি নাক বন্ধ হতে পারে?=> নাক বন্ধ হয়ে গেলে কি আমি নাক ঝাড়তে পারি?
=> নাক কতক্ষণ বন্ধ থাকতে পারে?
=> একটি সর্দি কতক্ষণ স্থায়ী হয়?
=> একটি সর্দি নাক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে?
=> সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী?
শেষ কথা : সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী?
বলাবাহুল্য সর্দি-জ্বর-কাশি সম্পর্কিত এই উপশমগুলি আমাদের শীতকালেই বেশী
দেখা দিয়ে থাকে। আর এই সময়ে সবথেকে বেশী আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্ক
ব্যক্তিগণ। তবে যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই উপশমগুলি
অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সমস্যা সংকুল। এ ছাড়াও রসুন, আদা, লেবু, তেজপাতা, মেনথল, পেঁয়াজ ইত্যাদি পদ্ধতিগুলি ঘয়োরাভাবে ব্যবহার করেও বন্ধ নাক স্বাভাবিক হতে পারে। এটা মনে রাখতে হবে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কিন্তু জীবনের কোনো ঝুঁকি হয় না। এর উদ্দীপক এবং অন্তর্নিহিত কারণগুলি খুঁজে বার করতে পারলে একে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। প্রাপ্তবয়স্ক এবং বাচ্চাদের ক্ষেত্রে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্ষতিকারক হতে পারে। তাই যে কোনো রকম জীবনের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী জটিলতা এড়ানোর জন্য অ্যালার্জির চিকিৎসা অবশ্যই করা উচিৎ।
আরও পড়ুন: সর্দিজ্বর হলে কি করণীয় - কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়
আশা করি আজকের সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী-তে বর্ণিত বিভিন্ন আলোচনাগুলি আপনাদের উপকারে আসবে এবং পরামর্শগুলিও যথেষ্ট সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। এ
ছাড়াও পরবর্তীতে অন্য কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে সেটাও কমেন্ট করে জানাতে
পারেন। এরকম আরো তথ্যমূলক পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করতে
পারেন। এতোক্ষণ আমাদের সাথে জেনে নিন, সর্দিতে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘরোয়া উপায় কী? আলোচ্য বিষয়ে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url