চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো (Neither Sugar nor Jaggery is Good for Health)

মিষ্টি পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়াই মুশকিল। কিন্তু এই মিষ্টির মধ্যে চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো তা আমরা অনেকেই জানিনা।

আমরা অনেকেই এও জানিনা যে, কিছু কিছু সময়ে এই মিষ্টিই আমাদের জন্য সমস্যা তৈরী করে থাকে। সব আগে জানতে হবে আমরা কোনটি খাচ্ছি এবং তা চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো তা আমাদের জানতে হবে:

পোস্ট সূচিপত্র: চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো
চিনির ক্ষতিকর দিকসমূহ
চিনির উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক
গুড়ের গুণাবলী সমূহ
চিনি ও গুড়ের তুলনা
চিনি না গুড় কোনটি উপযোগী
চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো - শেষ কথা

চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো বলতে মূলত চা, কফি, মিষ্টি বা বিভিন্ন রান্নায় মিষ্টি স্বাদ আনতে আমরা সাধারণত চিনি ব্যবহার করি। তা ছাড়াও গুড়ের তৈরী বিভিন্ন রসনা বিলাসও আমাদের অত্যন্ত জনপ্রিয়। যেমন-পায়েস বা ক্ষীরে গুড়ের ব্যবহার, বিভিন্ন আচার তৈরীতে, বিভিন্ন পিঠা-পুলি তৈরীতে, বিভিন্ন আচার তৈরী ইত্যাদি নানা পদে গুড়ের ব্যবহার অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে সর্বাগ্রে আমাদের জানতে হবে চিনির ক্ষতিকর দিকসমূহ:

চিনির ক্ষতিকর দিকসমূহ :

চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো আলোচ্য বিষয়ে এখানে চিনির ক্ষতিকর বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। যেমন-উচ্চ রক্তচাপ, প্রদাহ, ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং ফ্যাটি লিভারের মতো সমস্যার অন্যতম কারণ হতে পারে চিনি। চিনি হলো সুক্রোজ নামক রাসায়নিক যৌগ। এটি সাধারণত আখ বা বিট থেকে তৈরি হয়। যদিও চিনি দ্রুত শক্তি যোগায়, তবে এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

চিনির উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক:

চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো বিষয়ের আলোকে নিম্নে চিনির উপকারিতা ও ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
=> বাদামি ও সাদা চিনির ক্যালরি খুব কাছাকাছি। যেমন এক টেবিল চামচ বাদামি চিনিতে ১৫ ক্যালরি আর সমপরিমাণ সাদা চিনিতে ১৬.৩ ক্যালরি থাকে। বাদামি চিনিতে ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, কপার, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন: চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার এবং চুল লম্বা করতে মেথির ব্যবহার বা মেথির কাজ কি

=> চিনি হচ্ছে ফাঁপা ক্যালরি, এতে কোনো পুষ্টিগুণ নেই।=> মূলত চিনি শুধুই ক্যালরি যোগায়, যা ওজন বাড়ায় এবং দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিজমের ওপর প্রভাব ফেলে।=> চিনি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
=> চিনি বেশি খেলে কোলেস্টেরল বাড়ে, যা হার্টের রোগের কারণ হতে পারে।চিনি ব্যবহার সীমিত করতে হবে, যা মোট ক্যালরির ৫ থেকে ১০ শতাংশ রাখলে খুব ভালো।

গুড়ের গুণাবলী সমূহ :

চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো আলোচ্য ষিষয়ে নিম্নে গুড়ের নানারকম গুণাবলী বর্ণিত হলো:

  • সাধারণত গুড় হলো আখ বা খেজুরের রস থেকে তৈরি একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি। চিনি থেকে অনেক বেশি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হচ্ছে গুড়। অর্থাৎ গুড়ে থাকে আয়রন, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি৬, ম্যাংগানিজ, ম্যাগনেশিয়ামের মতো অত্যাবশ্যকীয় ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ।
  • গুড়ে থাকা আয়রন রক্তশূন্যতা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এ ছাড়া ম্যাগনেশিয়াম পেশি ও স্নায়ুর কার্যকারিতা উন্নত করে।
  • গুড় ডিটক্সিফায়ার হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ শরীর থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে এবং লিভার পরিষ্কার রাখে ও হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।

আরও পড়ুন: জাঙ্ক ফুড কি - জাঙ্ক ফুডের ক্ষতিকর দিকসমূহ

  • গুড়ে থাকা পটাসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
  • এ ছাড়াও গুড় গরম পানি বা দুধে মিশিয়ে খেলে ঠাণ্ডা-কাশি কমে এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দূর হয়।
  • গুড়ের গ্লাইসেমিক সূচক কম হওয়ায় এটি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে ও ওজন হ্রাসে সহায়তা করে। এ ছাড়া গুড় পলিফেনল ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্টের পাওয়ার হাউস। এতে অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্য আছে, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গুড় ননহিম আয়রনের (উদ্ভিজ্জ খাদ্য থেকে প্রাপ্ত) একটি চমৎকার উৎস, যা নারীদের ঋতুস্রাবের সময় এবং মাসিকের ক্রাম্পের ব্যথায় বেশ উপকারী।

চিনি ও গুড়ের তুলনা:

চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো বলতে চিনি ও গুড়ের মধ্যে প্রধান পার্থক্য হলো পুষ্টিগুণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে। আসলে চিনি বেশি প্রক্রিয়াজাত এবং এতে ফাঁপা ক্যালরি থাকায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। ফলে ডায়াবেটিস ও হার্টের রোগের ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে গুড় প্রাকৃতিকভাবে প্রস্তুত এবং এতে আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টিগুণ থাকে, যা আমাদের শরীরকে রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে, হজম উন্নত করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে অতিরিক্ত সেবনে উভয়েরই ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।

চিনি না গুড় কোনটি উপযোগী:

মূলত আপনার স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে চিনি বা গুড় বেছে নিতে হবে। তবে গুড় প্রাকৃতিক ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি চিনির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। এক্ষেত্রে ডায়াবেটিস বা ওজন কমানোর প্রয়াসে থাকলে অবশ্যই গুড় পরিমিত মাত্রায় খেতে হবে, কারণ এতে প্রাকৃতিক চিনি থাকে।

চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো - শেষ কথা:

সকালে এক গ্লাস গরম পানিতে গুড় মিশিয়ে খেলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর হয়। রান্নায় বা মিষ্টি তৈরিতে চিনি বাদ দিয়ে গুড় ব্যবহার করতে পারেন। গুড়ের তৈরি চা বা লাড্ডু স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে।

আরও পড়ুন: চিনি খেলে যেসব সমস্যা হতে পারে

চিনি বা গুড়—যেকোনো কিছুই অতিরিক্ত খেলে তা ক্ষতিকর হতে পারে। তবে প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণের কারণে গুড় স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। এক্ষেত্রে চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো বা চিনির পরিবর্তে গুড় ব্যবহার করলে আপনি শুধু মিষ্টি স্বাদই পাবেন না, বরং শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পাবেন। তাই সুস্থ থাকতে মিষ্টির বিকল্প হিসেবে গুড়কেই প্রাধান্য দিন।

এ ছাড়াও পরবর্তীতে অন্য কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে সেটাও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো তথ্যমূলক পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করতে পারেন। এতোক্ষণ আমাদের সাথে জেনে নিন, চিনি না গুড় স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো আলোচ্য বিষয়ে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url