জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি (Know the benefits and harms of guava)
পোস্ট সূচিপত্র: জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি
মূলত যারা নিয়মিত পেয়ারা খেয়ে থাকে তাদের সাধারণত ক্যানসার যেমন স্তন ক্যানসার, মুখের ও ত্বকের, পাকস্থলী ও ফুসফুসের ক্যানসার ইত্যাদি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পেয়ারার বিভিন্ন পুষ্টিগুণাবলী সমূহ :
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি তা জানাতে প্রথমেই পেয়ারার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে হবে। আসলে পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি ও পটাসিয়াম। একটি পেয়ারায় মাত্র ১১২ ক্যালোরি ও ২৩ গ্রামের বেশি কার্বোহাইড্রেটস রয়েছে। এছাড়া ৯ গ্রাম ফাইবারও থাকে। ১ কাপ পেয়ারা টুকরো ১.৬ গ্রাম ফ্যাট ও ৪ গ্রামের বেশি প্রোটিন থাকে।
ডায়াবেটিস রোগীদের পেয়ারা কতটা নিরাপদ:
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি এ বিষয়ে গবেষণায় বলছে, ডায়াবেটিসের জন্য পেয়ারা সুপার ফুড হিসেবে সনাক্ত করা হয়। এতে বেটা ক্যারোটিন, ফোলাইটের মতো খনিজ থাকায় শরীরের জন্য পেয়ারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফল।
আরও পড়ুন: জানতে হবে বেলের নানান উপকারিতা
১০০ গ্রাম কাটা পেয়ারায় থাকে ৯ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি। অনেক সময় অতিরিক্ত পেয়ারা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের অতিরিক্ত পেয়ারা না খেতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকগণ।
যাদের পেয়ারা খাওয়া উচিত নয় :
একজিমায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে :
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি এমন প্রশ্নে প্রথমেই আসে একজিমা রোগ। অর্থাৎ পেয়ারায় কিছু রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা কিছু মানুষের ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। এক্ষেত্রে যাদের একজিমার মতো ত্বক সম্পর্কিত কোনো সমস্যা আছে তাদের পেয়ারা খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে তবেই পেয়ারা খাওয়া সমিচীন।
সর্দি-কাশি আক্রান্ত ব্যক্তি :
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি বলতে পেয়ারাতে একটি শীতল প্রভাব রয়েছে। ফলে এই সুস্বাদু ফল ঠাণ্ডা ও কাশির মতো সমস্যাগুলো বাড়িয়ে তুলতে পারে। সেই কারণে চিকিৎসকগণ পরামর্শ দেন, যাদের সর্দি-কাশিজনিত সমস্যা আছে তাদের পেয়ারা খাওয়াটা এড়িয়ে চলাই ভালো।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের বিধি-নিষেধ:
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি এমন প্রশ্নে বলা যেতে পারে গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের ক্ষেত্রে তা ক্ষতিকর। সাধারণত গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে অনেক পরিবর্তন ঘটে থাকে, ফলে এই সময়ে কিছু খাবার এড়িয়ে চলার সাথে সাথে পেয়ারাও এড়িয়ে চলা উচিত। কেননা পেয়ারা খাওয়ার ফলে গর্ভবতী নারীদের পেটে ব্যথা, বমি বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়াও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের পেয়ারা খাওয়া এড়িয়ে চলাই উচিত, কারণ এটি শিশুর জন্য ক্ষতি করতে পারে।
যেসব ক্ষেত্রে পেয়ারা কার্যকরী :
পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকার ফলে তা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। তবে যাদের আগে থেকেই কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া বা গ্যাসের মতো পেটের সমস্যা আছে, তাদের জন্য পেয়ারা খাওয়াটা ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ হিসেবে দেখা যায় যে, পেয়ারা খেলে এসব সমস্যা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
ত্বক ফর্সা করার ক্ষেত্রে পেয়ারা অত্যন্ত কার্যকরী :
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি তা বলতে পেয়ারা ত্বক ফর্সা করে থাকে, অর্থাৎ সামান্য পরিমাণে পেয়ারার খোসা নিয়ে তার সঙ্গে ডিমের কুসুম মিশিয়ে একটা মিশ্রন বানিয়ে ফেলুন। এরপর সেটি ভালো করে মুখে লাগিয়ে খুব কম করে হলেও ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। আপনি যদি এভাবে সপ্তাহে ২-৩ দিন ত্বকের পরিচর্যা করতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার ত্বক ফর্সা এবং উজ্জ্বল হয়ে উঠতে সময় লাগবে না।
জেনে নিন পেয়ারা কী উপকারি না কী ক্ষতি : পরিশেষে
আরও পড়ুন: অনলাইনে অর্থ উপার্জনের ৫টি বৈধ উপায়সমূহ
আরও পড়ুন: জাঙ্ক ফুড কি - জাঙ্ক ফুডের ক্ষতিকর দিকসমূহ
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url