চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় (What is the harm of smoking with tea? )

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা আমরা সবাই জানি। যেটা ইংরেজিতে “Smoking is harmful for health বা Smoking is injurious for health লেখাটি আমরা দেখে থাকি।

তবে অনেকেই আছেন, যারা চায়ে চুমুক দেওয়ার সময়ই ধূমপান করে থাকেন। তাই, আজকে আমরা এই চায়ের সঙ্গে ধুমপান করার ভালো এবং খারাপ বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করবো: চলুন জেনে নেয়া যাক চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয়

পোস্ট সূচিপত্র: চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয়

শুধুমাত্র একটি সিগারেটে নিকোটিনের পরিমাণ কত?

চা ও সিগারেট যদি একসাথে খাই, তাহলে কী কী ক্ষতি হতে পারে

সিগারেট খেলে কি কিছু দুশ্চিন্তা কম হয়

সিগারেট ছাড়ার কিছু কৌশল বা পরামর্শ সমূহ

চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় - শেষ কথা

শুধুমাত্র একটি সিগারেটে নিকোটিনের পরিমাণ কত?

চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় এমন প্রশ্নে বিশেষজ্ঞদের বলে থাকেন, একটা সিগারেটে মোটামুটি ৬ থেকে ১২ গ্রাম নিকোটিন থাকে। আর এই উপাদান হার্টের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। নিকোটিনের কারসাজিতে হার্টের রক্তনালী সংকুচিত হয়ে পড়তে পারে। যার জন্য স্বাভাবিক রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এমনকী বিপদে ফেলতে পারে হার্ট অ্যাটাক।

চা ও সিগারেট যদি একসাথে খাই, তাহলে কী কী ক্ষতি হতে পারে:

সমীক্ষা বলছে, যে ব্যক্তিরা নিয়মিত ধূমপান এবং মদ্যপান করে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে গরম চা পানের অভ্যাস খাদ্যনালির ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন: পাসপোর্ট চেকিং করার নিয়ম - পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে পাসপোর্ট চেক

চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় তার বাস্তব উদহারণ হতে পারে, যেমন- চা ও সিগারেটের যুগলবন্দি পেটের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং সেইসঙ্গে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়। এই অভ্যাসের জন্য হজমশক্তি খুব দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এমনকি গ্যাস, অ্যাসিডিটির মতো সমস্যাও নিতে পারে পিছু।
যাদের ইতোমধ্যেই আইবিএস, আইবিডি-এর মতো পেটের অসুখ রয়েছে, তাদেরই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। তাই চা ও সিগারেট একসঙ্গে পান না করাই শ্রেয়।

অনেকেই আছেন যারা, খালি পেটে চা এবং সিগারেট একসঙ্গে পান করে থাকেন, এক্ষেত্রে সে সমস্ত ব্যক্তিদের মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় বলছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় যারা দিনে অন্তত: একটি সিগারেট খান তাদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি ৭% বেশি। অর্থাৎ চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় ডুয়েল প্লে মানব দেহের জন্য সর্তিই একটি হুমকি!

এ ছাড়াও যারা দিনে ৭-৮ কাপ চা খেয়ে থাকেন, তাদের হার্ট রেট বেড়ে যেতে পারে। ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে প্রেশার। সেই কারণেও হার্টের ক্ষতি হয়।

মূলত তামাক ও অ্যালকোহল দুটিই ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই ক্যানসারের মতো মারণ রোগ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে ধূমপান এবং মদ্যপানের অভ্যাস থেকে দূরে থাকা জরুরি। তবে চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় বলতে তা অবশ্যই এই অভ্যাসগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: হেঁচকি ওঠে কেন - হেঁচকি থামানোর ঘরোয়া উপায়গুলি কি কি

সিগারেটে উপস্থিত টক্সিন কোষগুলোর ওপর অনায়াসে আঘাত হানে। বাড়ে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা। বিশেষত, মুখগহ্বর, ফুসফুস ও গলার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

সিগারেট খেলে কি কিছু দুশ্চিন্তা কম হয় :

বেশির ভাগ মানুষ দুশ্চিন্তা কমাতে চা খাওয়ার পাশাপাশি ধূমপান করেন। তবে এর ফলাফল হয় উল্টো। এ ক্ষেত্রে দুশ্চিন্তা কমার বদলে তা বেড়ে যেতে পারে। চায়ে উপস্থিত ক্যাফিন ও ট্যানিন মনের হাল বেহাল করে দিতে পারে। অপরদিকে সিগারেট শরীরে স্ট্রেস হরমোনের পরিমাণ বাড়ায়। যেই কারণে মনের ভার বাড়ে। এর পাশাপাশি চায়ের সঙ্গে সিগারেটে সুখটান দিলে দাঁতের ক্ষতি হয়। দাঁত ধীরে ধীরে হলুদ হয়ে যায়। সেই সঙ্গে এর ক্ষয় হওয়ার সম্ভবনা বেড়ে যায় অনেকাংশে।

সিগারেট ছাড়ার কিছু কৌশল বা পরামর্শ সমূহ :

চা পান ছাড়ার প্রয়োজন নেই। দিনে ৩ থেকে ৪ কাপ চা অবশ্যই খেতে পারেন। তবে এতে দুধ মেশাবেন না। পারলে চিনি ছাড়া চা খান। তাতে উপকার পাবেন। তবে এখন থেকেই চেষ্টা করুন ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার। এরপর থেকে একটাও সিগারেট নয়। মনকে শক্ত করুন। পারলে কোনো একটা জায়গায় সিগারেট না খাওয়ার ভালো ও খারাপ দিকগুলো লিখে নিন। মনে ধূমপানের ইচ্ছে জাগলেই সেই লেখা পড়ুন। এর পাশাপাশি নিকোটিন গামেরও সাহায্য নিতে পারেন। তবে হাজার চেষ্টার পরও যদি নেশা না ছাড়তে পারেন, তা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে মনে ভেবে নিন, চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় বা হয়ে থাকে।

চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় - শেষ কথা :

অবশ্যই চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয়। আর এক্ষেত্রে চিকিৎসক বা মনোবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী সিগারেট ছাড়ার জন্য সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে নিজের ইচ্ছে। কিন্তু সেই সঙ্গে সাহায্য করার মতো আরও কিছুর দরকার পড়ে। তবে সত্যিই সিগারেট ছাড়ার জন্য চান বিকল্প হিসেবে কিছু খাবারের অভ্যাসের মাধ্যমে সিগারেট ছাড়া যেতে পারে-

যদি আপনি দিনের মধ্যে কোন কোন সময়ে সিগারেট খেতেন সেদিকে খেয়াল করুন। এরপর সিগারেট খাওয়ার সময়টাতে মুখে দিন কয়েক দানা মৌরি দিন। তবে অতিরিক্ত মৌরি নয়, আর এক্ষেত্রে মৌরি সব সময় সঙ্গে রাখুন। কারণ যেকোনো মসলা আমাদের স্নায়ুকে উদ্দীপ্ত করে সেই মসলার প্রতি আসক্ত করে তুলতে পারে। তবে মনে রাখবেন শরীরের জন্য কোনো আসক্তিই উপকারী নয়।
এ ছাড়াও নিকোটিনের আসক্তিকে কমাতে সাহায্য করে মিন্ট। সেজন্য সিগারেট ছাড়তে চাইলে সব সময় সঙ্গে রাখুন মিন্ট ফ্লেবারের চুইংগাম। বাজারে প্রচুর নিকোটিন গাম কিনতে পাওয়া যায়, ধোঁয়া এড়িয়ে কার্বন মনোক্সাইডের ক্ষতিকারক দিক সরাতে অনেকেই এগুলো বেছে নেন। কিন্তু এসব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এর বদলে চিবুতে পারেন মিন্ট ফ্লেবারের চুইংগাম।

আরও পড়ুন: চুল পড়ার কারণ ও প্রতিকার এবং চুল লম্বা করতে মেথির ব্যবহার বা মেথির কাজ কি

চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় এমন প্রশ্নে বা সিগারেট ছাড়ার মানসিকতা তৈরি হলে অবশ্যই টক জাতীয় ফল খেতে পারেন। কারণ সব ফলেই থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি। কমলা ও লেবুর অ্যান্টি টক্সিন ক্ষমতা শরীরকে দূষণমুক্ত করে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। সেই সঙ্গে কমায় নিকোটিনের খারাপ প্রভাব। ড্রাই ফ্রুটসে ক্যালোরি থাকে বেশি। যে কারণে এটি খেলে বাড়ে শরীরের কার্যক্ষমতা। ফলে ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরের পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।

উপরোক্ত আলোচ্য বিষয় ছাড়াও যদি অন্য কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে সেটাও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো তথ্যমূলক পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করতে পারেন। এতোক্ষণ আমাদের সাথে চায়ের সঙ্গে ধূমপানে কি ক্ষতি হয় আলোচ্য বিষয়ে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।

বি.দ্র: এই প্রতিবেদনটি কেবলমাত্র সাধারণ তথ্যের জন্য, বিস্তারিত জানতে হলে সব সময়েই বিশেষজ্ঞ/চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url