ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার (Benefits of coriander leaves)
ধনে পাতা সাধারণত রান্নায় স্বাদ ও সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। আজকে আমরা ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার নিয়ে অলোচনা করতে যাচ্ছি। বিস্তারিত জানতে নিম্নের লেখাটি পড়ুন:
সাধারণত ধনে পাতা শুধু খাবারের স্বাদ উন্নত করে না, এতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ
পুষ্টি উপাদানও স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাই, জেনে নেয়া যাক ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার সমূহ।
ধনিয়া পাতা সম্পর্কে জানতে নিম্নের যে কোনটি ক্লিক করুন:
আলোচনা ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার
ধনের পাতায় কি কি গুণাবলী আছে:
ধনে পাতা হচ্ছে খনিজের অন্যতম উৎস। ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার এর মধ্যে রয়েছে-পটাশিয়াম,
ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম আয়রন ও ম্যাংগানিজ। সাধারণত প্রতি ১০০
গ্রাম ধনে পাতায় পাওয়া যায়-৮৬.৩ গ্রাম জলীয় অংশ; ২.৩ গ্রাম খনিজ পদার্থ, খাদ্যশক্তি আছে ৪৪ কিলো ক্যালোরি, ৩.৩ গ্রাম আমিষ, চর্বি আছে ০.৬
গ্রাম, শকরা ৬.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৮৪ মিলিগ্রাম, আয়রণ আছে ১৮.৫ মিলিগ্রামসহ
ভিটামিন এ রয়েছে ৬৯১৮ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি রয়েছে ১০.০৫ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি
রয়েছে ১৩৫ মিলিগ্রাম ।
ধনে পাতার বিভিন্ন উপকারিতা:
ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার এর মধ্যে রয়েছে-
=> ধনে পাতা পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি করে, অর্থাৎ হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং এটি গ্যাস, বদহজম এবং পেটের অস্বস্তি দূর করতে খুৃবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
=> ধনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
=> ধনে পাতায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
=> ধনে পাতায় এমন উপাদান আছে যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
=> ধনে পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
=> ধনে পাতা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং সেইসঙ্গে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বকের সুরক্ষা প্রদানে সহায়তা করে।
=> ধনে পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়তা করে, কারণ এতে ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে।
=> সর্বোপরি, ধনে পাতা শরীরের ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
=> ধনে পাতা পরিপাকতন্ত্রের উন্নতি করে, অর্থাৎ হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে এবং এটি গ্যাস, বদহজম এবং পেটের অস্বস্তি দূর করতে খুৃবই কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে।
=> ধনে পাতায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা রক্ত থেকে বিষাক্ত পদার্থ দূর করে এবং রক্ত পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
=> ধনে পাতায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা শরীরের বিভিন্ন ধরনের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে।
=> ধনে পাতায় এমন উপাদান আছে যা খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।
=> ধনে পাতা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, অর্থাৎ এটি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
=> ধনে পাতা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং সেইসঙ্গে চুল পড়া কমাতে সাহায্য করে। এতে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা ত্বকের সুরক্ষা প্রদানে সহায়তা করে।
=> ধনে পাতা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্থাৎ ইমিউনিটি বাড়াতে সহায়তা করে, কারণ এতে ভিটামিন এ, সি এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান থাকে।
=> সর্বোপরি, ধনে পাতা শরীরের ভারী ধাতু এবং বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে।
ধনে পাতা রান্নায় ব্যবহার:
👉 ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার এর মধ্যে তা রান্নার স্বাদ এবং সুগন্ধ বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হয়। তবে এটি শুধু খাবারের রং ও স্বাদ উন্নত করে না, এতে থাকা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। ধনে পাতা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ সবজি ও সালাদে স্বাদ বাড়াতে এর জুড়ি নাই। এতে অন্ততপক্ষে ১১ প্রকারের এসেনশিয়াল অয়েল বা তেল, ছয় ধরনের অ্যাসিড ছাড়াও রয়েছে প্রচুর ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য উপকারী উপাদান।
আরও পড়ুন: গন্ধভাদুলী পাতার উপকারিতা ও গুনাগুণ
👉 ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার এর মধ্যে তা মাছ রান্নায় ব্যবহার করলে, তা মাছের তরকারিকে অত্যন্ত সুস্বাদু করে তোলে। এছাড়াও বিভিন্ন সবজি রান্নাতে ধনে পাতা ব্যবহার, ইচ্ছে করলে যে কোন ভাজাতেও ধনে পাতা ব্যবহার করা যেতে পারে। আলু, সোয়াবড়ি এবং ফুলকপির রেসিপিতে ধনে পাতা ব্যবহার করতে পারেন। ধনে পাতার চপ, ধনে পাতার পিঁয়াজি, ফুচকা, চটপটি নানা খাদ্য প্রণালীতে ধনে পাতা অনায়াসে ব্যবহার করে খাবার স্বাদের মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে।
ধনে পাতার অপকারিতাসমূহ:
ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার, ঠিক তেমনি এর অপকারিতাও আছে অনেক। সর্বোপরি অতিরিক্ত ধনে পাতা বেশি খাওয়ার ফলে কারো কারো অ্যালার্জি হতে পারে বা রক্তচাপ
খুব কমে যেতে পারে। নিম্নে ধনে পাতার অপকারিতাসমূহ বর্ণিত হলো:
👍 অতিরিক্ত ধনে পাতা খাওয়াতে এটি লিভারের কার্যক্ষমতাকে খারাপভাবে প্রভাবিত করে থাকে। অর্থাৎ ধনে পাতায় থাকা এক ধরনের উদ্ভিজ তেল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে ফেলে। এছাড়াও এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যেটা সাধারণত লিভারের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে বটে, কিন্তু দেহের মধ্যে এর অতিরিক্ত মাত্রার উপস্থিতি লিভারের ক্ষতিসাধন করে থাকে।
👍 অতিরিক্ত ধনে পাতা খাওয়াতে এটি লিভারের কার্যক্ষমতাকে খারাপভাবে প্রভাবিত করে থাকে। অর্থাৎ ধনে পাতায় থাকা এক ধরনের উদ্ভিজ তেল শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে আক্রান্ত করে ফেলে। এছাড়াও এক ধরনের শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে, যেটা সাধারণত লিভারের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে বটে, কিন্তু দেহের মধ্যে এর অতিরিক্ত মাত্রার উপস্থিতি লিভারের ক্ষতিসাধন করে থাকে।
আরও পড়ুন: সজনে পাতার উপকারিতা গুণাবলী ও ঔষধী শক্তি
👍 অতিরিক্ত ধনেপাতা খাওয়ার ফলে হৃৎপিন্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এতে নিম্ন রক্তচাপের সৃষ্টি হয়। সাধারণত চিকিৎসকরা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ধনেপাতা খাওয়ার পরামর্শ দেন, কিন্তু অতিরিক্ত ধনে পাতা খেলে সেটা নিম্ন রক্তচাপের সৃষ্টি করে। এছাড়াও অনেক সময় এটি মাথাব্যথারও কারণ হতে পারে।👍 স্বাভাবিকভাবে ধনেপাতা গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল বিষয়ক সমস্যা দূর করে থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত পরিমাণে ধনে পাতা খেলে তা পাকস্থলীর হজমক্রিয়ায় সমস্যাও তৈরি করে। একটি গবেষণায় দেখা যায়, সপ্তাহে অন্তত ২০০ গ্রামের বেশি ধনে পাতা খেলে তা গ্যাসের ব্যথা, পেটে ব্যথা, পেট ফোলা, বমি হওয়া এমনকি ডায়রিয়ার কারণও হতে পারে।
👍 সবুজ ধনে পাতাতে মোটামুটিভাবে কিছু ঔষধি অ্যাসিডিক উপাদান থাকে, যেটি ত্বককে সূর্যরশ্মি থেকে বাঁচিয়ে সংবেদনশীল করে থাকে। কিন্তু অতিরিক্ত ধনে পাতা সেবনে সূর্যের রশ্মি একেবারেই ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। যার ফলে ত্বক ভিটামিন ‘কে’ থেকে বঞ্চিত হয়। এছাড়াও অতিরিক্ত ধনে পাতা সেবনে ত্বকে ক্যানসারও তৈরি করে থাকে।
ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার - শেষ কথা:
মূলত ধনে পাতায় প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক উপাদান থাকায় তা শরীরের জন্য যেমন উপকার বয়ে আনে, ঠিক তেমনই অতিরিক্ত ধনে পাতা খেলে তা যকৃতের সমস্যাসহ ডায়রিয়া কিংবা অ্যালার্জির মতো বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেকেই ধনে পাতার উপকারিতা না জেনেই নিয়মিত বিভিন্ন তরকারিতে ব্যবহার
করছেন।
সাধারণত ধনিয়া পাতা আমরা রান্নায় ব্যবহার না করে বিভিন্ন সালাদে দিয়ে খেতে পারি। ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার এর মধ্যে সালাদে তা কাঁচা খাওয়া যাবে এবং ভিটামিনের পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে। মূলত ধনিয়া পাতা আমরা সবজি খিচুরির মধ্যে দিতে পারি, যে কোন তরকারিতে দিতে পারি, বোরহানির মধ্যেও দিতে পারি। আসলে প্রতিটি খাদ্য গ্রহণের একটি মাত্রা এবং সময় আছে, আমরা অনেকেই জানিনা বা জানতে চাইনা।
আরও পড়ুন: গিমা শাক এর উপকারিতা ও ঔষধি গুণ
সুতরাং জানা, মানা, বোঝা সবকিছুই আমাদের মধ্যে যদি আমরা তা পজিটিভলি গ্রহণ করতে পারি। পরিশেষে আপনাদের অনেক ধন্যবাদ, কারণ এতোক্ষণ আমাদের সাথে ধনিয়া পাতায় মিলবে যেসব উপকার বিষয়ক আর্টিকেলটি পড়ার সঙ্গে যুক্ত থাকার জন্য। আশা করি সবাই সুস্থ্য, সুন্দর এবং ভালো থাকবেন।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url