দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? (Check out which countries have Iftar during Ramadan)
সাধারণত হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান হলো সবচেয়ে পবিত্র মাস। আর এই পবিত্র মাসেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা মাসব্যাপী রোজা রাখেন। তাই দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়?
কিন্তু ধর্ম এক হলেও দেশে দেশে সংস্কৃতির ভিন্নতার কারণে তাদের সবার ইফতার আয়োজন এক রকম হয়না। এ জন্যই দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়?
পোস্ট সূচিপত্র: দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়?
সারা বিশ্বের এক বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ নিয়মিত রোজা রাখেন এবং দিনশেষে ইফতার করেন। আসলে রমজান মাস হলো আত্মশুদ্ধি, পূন্য অর্জনের মাস। সুতরাং দেখে
নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়?
বাংলাদেশে ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? এর মধ্যে প্রথমে আমরা তুলে ধরি বাংলোদেশকে। আসলে অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ইফতারের আয়োজনে রাখা হয় নানান খাদ্যসমূহের সমাহার। যেমন-পিঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ, বিভিন্ন ধরনের সবজির পাকোড়া, মুড়ি, ছোলা বুট, জিলাপি, হালিমসহ নানা রকমের শরবত ও ফল। তবে এসব হালকা খাবারের পাশাপাশি অনেক পরিবার ইফতারের সময় হাতে তৈরি নানা রকমের পিঠা-পুলি, তেহারি, বিরিয়ানি, খিচুড়ি, তন্দুরি চিকেনের মতো ভারী খাবারও খেয়ে থাকে।
ভারতে ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
বিশাল ঐতিহ্যের ধারক ভারতের বিভিন্ন অঙ্গ প্রদেশে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতি ও নিজস্ব ঐতিহ্য। বিশাল আয়তনের এই দেশটির একেক রাজ্যের ইফতার আয়োজনে একেক খাবার জনপ্রিয়। যেমন-হায়দ্রাবাদের মুসলিম জনগোষ্ঠী ইফতারে হালিম খেতে পছন্দ করেন। আবার, কেরালা ও তামিলনাড়ুর মুসলমানরা ইফতার করেন 'নমবু কাঞ্জি' (আসলে নমবু কাঞ্জি হলো মাংস, সবজি এবং পরিজের সমন্বয়ে তৈরি এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার) নামে এক ধরনের খাবার দিয়ে।
আরও পড়ুন: গরিব-অসবায়দের গোপনে দান করলে যে সওয়াব পাবেন
তবে সামগ্রিকভাবে দেখলেও কিন্তু ভারতে ইফতারে ভাজাপোড়া জাতীয় খাবারের চল আছে। দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের অলিতে-গলিতে বিক্রয় হতে থাকে নানা ধরনের পাকোড়া, সমুচা, চপ ইত্যাদি। তবে সাধারণত দিল্লিসহ উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে ইফতারের শুরুতে পানির সাথে থাকে খেজুর, ছোলা বুটসহ বিভিন্ন রকম ফল ও ফলের শরবত, দুধ, ডিম এবং দইয়ের মতো খাবারগুলি। এ ছাড়াও ভারী খাবার বলতে বিভিন্ন ধরনের কাবাব, হালিম, কাটলেট, শর্মা, স্যুপ, বিরিয়ানি ইত্যাদিও চলে জোরেসারে। তাই দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? এর পরবর্তী দেশগুলো-
পাকিস্তানে ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
রমজানের ইফতারে পাকিস্তানের আয়োজনই একটু ভিন্ন রকমের। দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? হিসেবে পাকিস্তানে ইফতার আয়োজনে পানি এবং খেজুরের সঙ্গে দেখা যায় মাংস ও রুটির মতো খাবারগুলো। তবে নানা ধরনের কাবাব, তন্দুরি, কাটলেট, টিক্কার উপস্থিতি প্রায় প্রতিদিনের ইফতারেই রেখে থাকেন তারা। এ ছাড়াও উপরোক্ত ভারী খাবারগুলির পাশাপাশি তারা ইফতারের সময় বিভিন্ন ভাজাপোড়াও খেয়ে থাকেন। যেমন- রোল, নিমকি, মাংস ও সবজি দিয়ে তৈরি করা এক ধরনের বিশেষ সমুচা, বিভিন্ন ধরনের চপ, পাকোড়া ইত্যাদি। তবে পানীয় হিসেবে তারা নানারকম শরবত, ফল বা ফলের সালাদ, ছোলা-বুট, ফালুদা, জিলাপি, এমনকি বিরিয়ানি। তবে পানীয় হিসেবে রুহ আফজার কদর পাকিস্তানে সবচেয়ে বেশি।
ইন্দোনেশিয়া ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়াতে অবস্থিত মুসলিম জনগোষ্ঠী ইফতারে তেল ও মশলা জাতীয় খাবারের পরিবর্তে বিভিন্ন রকম ফল এবং ফলের শরবতকে প্রাধান্য দেয়। এছাড়াও তাদের ইফতার আয়োজনে থাকে নানা রকম মিষ্টি জাতীয় খাবার। ব্যতিক্রমধর্মী ইন্দোনেশিয়ায় ইফতারের আয়োজনে বুবুর চ্যান্ডিল নামক এক ধরনের মিষ্টান্ন; মিষ্টি আলু দিয়ে তৈরি বিজি সালাক; কলা, মিষ্টি আলু অথবা কুমড়া দিয়ে তৈরি কোলাক; কলা দিয়ে তৈরি এস পিসাং ইজো সহ আরও নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার এসময় ইন্দোনেশিয়ানরা তৈরি করে থাকে।
নাইজেরিয়া ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
নাইজেরিয়ার ইফতারে শর্করা জাতীয় খাবার ও ফলমূলকে বেশী প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যেমন- জল্লফ রাইস, এটি নাইজেরিয়ানদের অন্যতম প্রধান খাবার, যা চাল, পিঁয়াজ, টমেটো, মরিচ ইত্যাদির সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়। এটি তারা সবজি বা মাংসের সাথে খেয়ে থাকেন। এ ছাড়াও মই মই (পুডিং), ইয়াম (এক ধরনের আলু), আকারা (বিন কেক), মাসা (রাইস কেক), ইলুবো ও আমালা’র (ইয়াম দিয়ে তৈরি এক বিশেষ খাবার) মতো আরও নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবারও তাদের ইফতার তালিকায় থাকে।
মিশরের ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? এর মধ্যে মিশরের মুসলিমরা পুরো রমজান জুড়ে সেখানকার পথেঘাটেও বিভিন্ন ধরনের রঙ্গিন আলো জ্বলতে দেখা যায়। এ ছাড়াও তাদের ইফতার টেবিলে থাকে নানা ধরনের খাবারের সমারোহ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো 'আতায়েফ' ও 'কুনাফা'। আতায়েফ হলো এক ধরনের প্যানকেক ও কুনাফা এক ধরনের সিরাপ। সুতরাং এই দু'টো খাবার মিশরীয় মুসলমানদের ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশও বলা যেতে পারে। তবে দেশটির অনেক পরিবার ইফতারে বাদামি রুটি এবং মটরশুঁটি, টমেটো, বাদাম ও অলিভ অয়েল দিয়ে তৈরি ‘ফুল মেদেমাস’ নামক এক ধরনের খাবার খেতে পছন্দ করেন। এ ছাড়াও মিশরীয়রা তাদের ইফতারে এপ্রিকটস ফল দিয়ে তৈরি কামার-আল-দিনান্দ আরায়সি এবং দুধ, ভ্যানিলা ও নারিকেল দিয়ে তৈরি সোবিয়া নামক পানীয় পান করেন। সর্বোপরি মিশরের মুসলিমরা তাদের খাবার টেবিলে রাখে বিভিন্ন ধরনের ফল, ফলের রস ও সবজি।
তুরস্কের ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
পবিত্র রমজানে তুরস্কের মুসলিমরা ইফতারে পছন্দের শীর্ষে রাখে খেজুর। সেইসাথে, বিভিন্ন ফলমূল, শরবত, হরেক রকম কাবাব তো আছেই তাদের খাদ্য তালিকায়। তবে রমজানে দেশটির মুসলমানদের সবচেয়ে পছন্দের খাবার হলো রামাজান পিদেসি, যা মূলত এক ধরনের রুটি। সাধারণত নান রুটির মতো একই পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়, তবে প্রথমে ময়দার সাথে দুধ, মাখন, জলপাই দিয়ে খামির তৈরি করা হয় এবং পরে রুটির ভেতর ডিম ও গরুর মাংসের পুর দিয়ে সেটিকে চুলায় বেক করা হয়। সুতরাং দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? এর পরের দেশগুলো-
ইরানের ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
পরিত্র রমজানে ইরানের মুসলিমদের অন্যতম প্রধান খাবার হলো খেজুর, তা ছাড়াও রুটি, স্যুপ, র্যাপ, কাবাবের মতো সুপরিচিত খাবারের পাশাপাশি ইফতারের সময় সেখানে ঘরে ঘরে তৈরি হয় জাফরানের ঘ্রাণযুক্ত এক ধরনের ঐতিহ্যবাহী পার্শিয়ান হালুয়া। এছাড়াও জাফরান চাল দিয়ে তৈরি 'শোলেহ জার্দ' নামক এক ধরনের পুডিংও ইরানিদের খুব প্রিয়। তা ছাড়াও পার্শিয়ান নুডুলস, সবজি, পেঁয়াজ, বিন ইত্যাদি দিয়ে তৈরি আশ রাসতেহ নামক ঘন স্যুপ ও হালিমও সেখানে ইফতারের সময় আগ্রহ নিয়ে খাওয়া হয়। সেখানকার দেশে ইফতারে আরও থাকে স্যান্ডউইচ, চা, তাবরেজি চিজ, জুলবিয়া (বাংলায় যাকে জিলাপি বলা হয়, বামিয়েহ নামক এক ধরনের মিষ্টান্ন ইত্যাদি। সুতরাং ইফতারের আয়োজনে দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়?
আলজেরিয়া ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
আলজেরিয়ানরা সাধারণত পিজ্জা ‘সোয়ারবা’, সবজি রোল, আলু, সবজি দিয়ে তৈরি দোলমা ইত্যাদি দিয়ে তাদের ইফতার শুরু করেন। তবে মাগরিবের নামাজের পর তারা ‘সিগার’ নামক এক ধরনের পানীয় পান করেন, যা বাদাম দিয়ে তৈরি। এছাড়া, তাদের ইফতারের তালিকায় বিভিন্ন স্যুপও থাকে।
সৌদি আরবের ইফতারের আয়োজনে যা থাকে:
দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? এর মধ্যে সৌদি আরবে ইফতারের শুরুতে 'গাহওয়া' নামক অ্যারাবিক কফি পান করেন এবং সেইসাথে অবশ্যই খেজুর খান। মাগরিবের নামাজ শেষে তারা সাধারণত ভারী খাবার খান। অন্যান্য দেশের ন্যায় সৌদি আরবেও অঞ্চলভেদে ইফতারের খাবারে ভিন্নতা রয়েছে। তবে দেশটির পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ তাদের ইফতারে শৌরাইক রুটি ও দুজ্ঞাহ নামক ঐতিহ্যবাহী খবার খান।
আরও পড়ুন: জানতে হবে বেলের নানান উপকারিতা
অন্যদিকে পূর্বাঞ্চলের লোকেরা ইফতারে সালুনা নামের একটি বিশেষ খাবার খান, যা মাংস ও সবজির স্টু দিয়ে তৈরি। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের মানুষ তাদের রোজা ভাঙ্গেন আসিদাহ, মারগগ, মাফরৌক ও মাতাজিজ নামক ঐতিহ্যবাহী খাবার দিয়ে। এগুলো বাদামি আটা, গরুর মাংস, সবজি, মধু, পিঁয়াজ বা ঘি দিয়ে তৈরি করা হয়। উল্রেখ্য দেশটির আরেকটি জনপ্রিয় খাবার হলো থারিদ বা স্যুপ, যা মূলত ভেড়ার মাংস ও সবজি দিয়ে তৈরি করা হয়ে থাকে।
দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? - শেষ কথা:
পবিত্র রমজান মাসে মুসলমানরা পূণ্য অর্জন ও আত্মশুদ্ধির আশায় সূর্যোদয়
থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার থেকে বিরত থাকেন এবং মাগরিবের
আজান শুনে আল্লাহর নাম নিয়ে মুখে খাবার তুলে তারা রোজা ভাঙ্গেন। আর এই রোজা
ভাঙ্গার সময়কেই বলা হয় ‘ইফতার’। তবে বর্তমানে অনেক দেশে কিন্তু ইফতারকে
বলা হয় ‘ইফতর’। যদিও বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির কারণে ইফতারও হয় সব রকমারি খাদ্য দিয়ে। সেজন্যে আজকের দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? তা আমাদের জানার পরিধি অনেকখানি বিস্তৃতি করবে।
আরও পড়ুন: জেনে নিন কাঁচা ছোলা খাওয়ার যত উপকারিতা
আশা করছি, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রমজানের সময় ইফতারের আয়োজনে কি কি থাকে তা যদি জেনে থাকেন তাহলে আপনাদের উপকারে আসবে। দেখে নিন, রমজান মাসে কোন দেশে কি ইফতারি করা হয়? বিষয়ক আরো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন এবং পরবর্তীতে অন্য কোনো বিষয়ে জানতে চাইলে সেটাও কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এরকম আরো তথ্যমূলক পোস্ট পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করতে পারেন। এতোক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url