গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে (How to check molasses adulteration)

বর্তমানে ভেজাল গুড়ে ছেয়ে গেছে বাজার। বিশেষ করে কোনটি আসল, কোনটি নকল গুড় তা চেনা খুব সহজ নয়। গুড় কেনার আগে অবশ্যই দেখেশুনে কিনতে হবে। তাই গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে আজকের সে বিষয়টি আর্টিকেলে বর্ণিত হলো। 
পবিত্র রমজানে সারাদিন রোজা রেখে ইফতারের সময় শরবতের প্রয়োজন অতীব জরুরী। সর্বোপরি যদি সেটা হয় গুড়ের শরবত। হতে পারে সেই গুড়টিই যদি ভেজাল হয়, তাহলে কি করবেন। গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে তা জানতে নিচের লেখাগুলো পড়ুন:

পোস্ট সূচিপত্র: গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে

গুড় খাঁটি কিনা তা যেভাবে যাচাই করবেন

স্বাদের পার্থক্য

বর্ণ বা গুড়ের কালার

গন্ধ বা ঘ্রাণ

খাঁটি গুড় চেনার আরও যে কৌশল

ঝোলা গুড় চিনতে যা করবেন

গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে -শেষ কথা:

গুড় খাঁটি কিনা তা যেভাবে যাচাই করবেন:

বর্তমানে ভেজাল খেয়ে আর ভেজাল মেখে মূলত কোনটি আসল আর কোনটি নকল তা বোঝার বোধগম্যতাই হারিয়ে গেছে। ফলে আসল ও নকল জিনিসের পার্থক্যটা আমাদের কাছে জটিল হয়ে দাঁড়ায়। এক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতা, অভিজ্ঞতা, আগে থেকে না জানা এই রকম বিশেষণ শব্দগুলি জীবনের সাথে একেবারেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গেছে। গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে বা খাঁটি গুড় কীভাবে চেনা যায় তার কিছু কৌশল নিম্নে বর্ণিত হলো :

স্বাদের পার্থক্য:

গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে এর ক্ষেত্রে অবশ্যই গুড় কেনার আগে অবশ্যই এক টুকরো ভেঙে মুখে দিন। স্বাদ যদি নোনতা মনে হয়, না কেনাই ভালো। মনে রাখবেন, নোনতা গুড় কোনোভাবেই খাঁটি হতে পারে না। ভেজাল মেশানো থাকলেই সাধারণত এমন হয়।

আরও পড়ুন: টক দই এর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা

বর্ণ বা গুড়ের কালার

সাধারণত গুড়ের রং হালকা বাদামি হয়ে থাকে। যদি কিনতে গিয়ে দেখেন যে, ‍গুড়ের রং একটু বেশি কালচে হয়ে গিয়েছে, সেটি না নেওয়াই ভালো। আবার অনেক সময় দেখবেন, গুড়ের ওপরে সাদা আর হলদে স্তর পড়ে আছে। সাধারণত রাসায়নিক মেশানো থাকলেই এমন রং বদলে যেতে পারে। তাই কেনার আগে গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে বিষয়ে সাবধান থাকাটা জরুরি।

গন্ধ বা ঘ্রাণ:

ভালো মানের পাটালি গুড়ের নিজস্ব গন্ধ থাকে। যা দূর থেকেই গন্ধে ম ম করে চারিদিকে। তবে কেনার আগে গুড়টি নাকের কাছে এনে একবার শুঁকে নিন। গন্ধের বিশেষ তীব্রতা না থাকলে কেনার দরকার নেই। অনেক সময় রাসায়নিক নানা সামগ্রী মেশানোর কারণে গুড়ের আসল গন্ধ চাপা পড়ে যায়।

খাঁটি গুড় চেনার আরও যে কৌশল:

👉 গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে এর ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, গুড় দেখতে উজ্জ্বল হয় না। তবে বাজারে গেলে অনেক উজ্জ্বল বা চকচকে গুড় দেখতে পাবেন। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন গুড়ি যদি চকচকে ধরনের রঙ বা স্ফটিকের মতো স্বচ্ছ হয়, তাহলে অবশ্যই সেই গুড় খাঁটি নয়।

👉 সাধারণত চিনি মিশিয়ে তৈরি পাটালি গুড় খুব শক্ত হয়ে থাকে। তবে বিশেষ করে গুড়ের দুই ধার যদি অতিরিক্ত শক্ত ও ধারালো হয় তবে সেটা না কেনাই উত্তম।

👉 মনে রাখবেন, পাটালি গুড়ের ভেতরের অংশ রসালো হয়। তাই কেনার আগে যদি সম্ভব হয় তাহলে ভেঙে দেখুন। যদি শুকনো মনে হয়, তাহলে না কেনাই ভালো।

আরও পড়ুন: কীভাবে যোগাসন করে হজম শক্তি ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা যায় - হজম শক্তি কমে যাওয়ার কারণ ও লক্ষণগুলো কি কি?

👉 পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, এক গ্লাস পানিতে গুড়ের টুকরা ফেলুন। যদি দেখেন গুড়টি ধীরে ধীরে গলে যাচ্ছে, তাহলে বুঝবেন গুড়টি খাঁটি। আর যদি নিচে জমে গেলে ধরে নেবেন সেটাতে অবশ্যই ভেজাল রয়েছে।
 
👉 গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে হিসাবে আরও খেয়াল করবেন, সাধারণত গুড় একটু তেতো স্বাদের লাগে, তবে বুঝতে হবে ওই গুড় অনেকক্ষণ ধরে জ্বাল দেওয়া হয়েছে। এ কারণেই একটু তিতকুটে স্বাদ হয়েছে।

ঝোলা গুড় চিনতে যা করবেন:

ঝোলা গুড় খাঁটি কিনা তা বোঝার জন্য যে গুড় কিনতে চাচ্ছেন সেখান থেকে সামান্য একটু তুলে মুখে দিন এবং এর স্বাদ বোঝার চেষ্টা করুন। যদি দেখেন গুড় কিছুটা নোনতা স্বাদের মনে হয়, তাহলে সেই গুড় কেনা থেকে বিরত থাকুন। কারণ ঝোলা গুড় খাঁটি হলে তা নোনতা স্বাদের হবে না।

গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে -শেষ কথা :

তবে গুড় আমাদের সবার পছন্দ। সেমাই-পায়েস বানাতে কিংবা শুধু মুড়ির সঙ্গে গুড় খেতে অনেকেই পছন্দ করি। বিশেষ করে শীতের সময় বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে-পার্বণের তোড়জোড় চলে। তাই পিঠে-পুলির আয়োজনের আগে অবশ্যই গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে তার বিষয়ে জানা উচিত। বলাই বাহুল্য বিশেষ করে শীতের সময়টায় পিঠে-পুলির মিষ্টি গন্ধে আকাশ-বাতাস ভরে ওঠে। সেই গন্ধে মিশে থাকে পাটালি গুড়ের সুবাস। আর তাই শীতেই সবচেয়ে বেশি গুড় কেনার হিড়িক পড়ে বাঙালির। পিঠার স্বাদ কেমন হবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে গুড়ের গুণমানের ওপর। সেই কারণেই গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে তা জানতে হবে।

আরও পড়ুন: বিখ্যাত সব মনীষীদের ১০০টি সেরা বাণী বা উক্তি - বিখ্যাত লেখকদের উক্তি ও বাণীসমূহ

তাই বলা যায়, অন্যান্য অনেক খাবারের মতোই বাজারে নকল এবং ভেজাল গুড় পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।আজকের আর্টিকেলে নকল ও ভেজাল গুড় চেনার যে বিষয়গুলি বর্ণিত হয়েছে, আশাকরি তা থেকে পাঠকগণ উপকৃত হবেন। গুড় ভেজাল যাচাই করবেন যেভাবে বিষয়ক আর্টিকেলটি যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে তা প্রিয়জনদের নিকট শেয়ার করুন এবং দীর্ঘ সময় আমাদের সাথে থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url