সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী (Important rules to know to save)
অনেক সময় অমনোযোগিতার কারণে শেভ করতে গিয়ে ছোট্ট-খাট কোন একটা সমস্যাই পড়তে হয়। তাই কিভাবে সেভ করলে ঝুঁকিমুক্ত হওয়া যায় তা জানতে আজকে সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী বিষয়ক আর্টিকেলটি পড়তে হবে।
পুরুষের মুখশ্রী সুন্দর রাখতে নিয়ম করে শেভ করার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু ত্বকের ধরণ অনুযায়ী শেভ করার পর ভুগতে হয় নানা জটিলতায়। আজকের আর্টিকেল থেকে আপনি জানতে পারবেন সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী।
পোস্ট সূচিপত্র: সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী
নিয়মানুবলীসমূহ:
সেভ করার আগে যা করতে হবে:
সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী এর ক্ষেত্রে অবশ্যই শেভিং করার আগে ত্বক ভিজিয়ে নিতে হবে। মনে রাখবেন শুষ্ক ত্বকে কখনোই শেভিং করা উচিত নয়। কারণ গরম পানির বাষ্প ও পানি ত্বককে নরম করতে এবং এর লোমকূপগুলোকে উন্মুক্ত করতে সাহায্য করে। ফলে লোমের ফলিকলগুলো ভিজে আলগা হলে শেভিং হয় মসৃণ আর ত্বকেরও কোন ক্ষতি হয় না।
শেভিং ক্রিম ব্যবহার:
সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী এর মধ্যে শেভিং ক্রিম ব্যবহার করাটা উচিত। তবে ফেনা ওঠে এমন জাতীয় শেভিং ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। এতে ত্বকে রেজরের ব্লেডের চাপটা দ্রুত বসে না বা কাটাছেঁড়ার হাত থেকে বাঁচা যায়। শেভ করে ফেলার পর অনেকের মুখে লালভাব, জ্বালাপোড়া ও চুলকানি হয়ে থাকে।
তবে সেক্ষেত্রে ময়েশ্চারাইজারযুক্ত শেভিং ক্রিম ব্যবহার করলে এটা অনেকটাই কমে আসে। কোনো সময় যদি শেভিং ক্রিম ফুরিয়ে যায় তাহলে এ ধরনের হালকা ও ক্রিমযুক্ত কন্ডিশনার ব্যবহার করতে পারেন।
রেজারের সঠিক ব্যবহার:
শেভ করার ক্ষেত্রে অনেকেই রেজারের সঠিক ব্যবহার করতে পারেন না। অর্থাৎ সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী, তা হলো শেভ করার পরে যদি ত্বক মসৃণ ও মোলায়েম বোধ হয়, তাহলে বুঝতে হবে রেজারের ব্যবহার সঠিক হয়েছে। শেভ করার সময় খেয়াল রাখবেন যে, যেদিক থেকে লোম বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেদিক থেকে শেভ করা শুরু করতে পারেন। এরপর রেজারের অবস্থান পরিবর্তন করে এটিকে ঠিক বিপরীত দিকে গ্লাইড করতে হবে। তবে অবশ্যই খেয়াল করবেন, যাদের সংবেদনশীল ত্বক, তাদেরকে অবশ্যই বিপরীত দিকে চালিয়ে রেজার ব্যবহার করা যাবে না।একই জায়গায় বারবার রেজার ঘষা যাবে না:
একই জায়গায় বারবার রেজার ঘষা যাবে না। অনেকেই মনে করেন, একই স্থানে একাধিকবার রেজার চালালে বা সোয়াইপ করলে মসৃণ, সুন্দর ও মোলায়েম ত্বক পাওয়া যাবে। কিন্তু সম্পূর্ণরূপেই ভুল ধারণা, কারণ যদি সেটা করা হয় তাহলে উল্টোটা হবে। অর্থাৎ একই জায়গায় বারবার রেজার ঘোষার ফলে ত্বকে জ্বালা ভাব হতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে ত্বকে ফুসকুড়ির পাশাপাশি লাল ভাব ও শুষ্কতাও দেখা দেয়। অব্যবহৃত দুই থেকে তিন ব্লেড রেজর দিয়ে একটিমাত্র সোয়াইপই ত্বকের জন্য যথেষ্ট।
লেডিস রেজার ব্যবহার:
সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী এর মধ্যে মনে রাখবেন, শঙ্কামুক্ত শেভ করতে চাইলে লেডিস রেজার ব্যবহার করতে হবে। আসলে পুরুষ ও নারীদের রেজারের ধরন আলাদা হয়ে থাকে। সাধারণত অনেকেই বাজারের কম দামি রেজার ব্যবহার করে থাকে।
আরও পড়ুন: সৌন্দর্যচর্চায় তিলের তেলের ১০টি গুণাবলী সম্পর্কে জেনে নিন
এক্ষেত্রে তা থেকে বিরত থাকতে হবে। অর্থাৎ নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি রেজারে ময়েশ্চারাইজিং স্ট্রিপ থাকে, যা ত্বককে নরম ও কোমল রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে লেডিস রেজারে শরীরের সব স্থানে আরামদায়ক শেভের জন্য থাকে অ্যাঙ্গেল করা অগ্রভাগ সহ বিশেষ প্রযুক্তির ব্লেড আর প্রতিরক্ষামূলক কুশন।
ওয়ান টাইম রেজার ব্যবহার:
সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী এর ক্ষেত্রে অবশ্যই শেভ করার জন্য ওয়ান টাইম রেজার ব্যবহারের চেষ্টা করবেন, অর্থাৎ একটা রেজার দিয়ে শুধুমাত্র একবারই শেভ করতে হবে। কারণ, পুরোনো রেজার যেমন ত্বকের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তেমনি এতে সময়ও লাগে বেশি। পুরোনো রেজার ব্যবহারের কারণে অনেক সময় ত্বকে জ্বালা ভাব হতে পারে। তাই এই ধরণের সমস্যা এড়াতে অন্তত তিনবার ব্যবহারের পর পুরোনো রেজারটি ফেলে দেয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।
ছোট ছোট স্ট্রোকে শেভ করা:
সেভ করার সময় মনে হতে পারে যে দীর্ঘ বা বড় স্ট্রোক সহজ এবং কম সময় সাপেক্ষ, কিন্তু এটি করা যাবে না। অর্থাৎ ছোট ছোট স্ট্রোকে শেভ করলে ত্বকের কোন ক্ষতি হয়না এবং ত্বক ভালো থাকে। কারণ সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী এর মধ্যে ছোট ছোট স্ট্রোকে সেভ করতে হবে।সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী-শেষ কথা:
তাই সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী তা বর্ণিত আর্টিকেল থেকে জানতে পেরেছেন। ত্বকের কোন জায়গায় কেটে গেল, হয়তো স্যাভলন লাগালেও কাটা জায়গাটা কিন্তু একটা দাগ হয়েই যায়। মনে রাখবেন শেভ করার আগে হালকা গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। এ ছাড়াও যদি ভাল করে মুখ পরিষ্কার করে নিতে পারেন, তাহলে এতে ময়লাও দূর হবে এবং লোমকূপগুলো উন্মুক্ত হয় ও মরা কোষগুলো দূর হয়।
আরও পড়ুন: বিশ্বে মুসলিম জনসংখ্যার দেশ কয়টি?
সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী এর মধ্যে অন্যতম বিষয় হলো সাধারণত দাড়ি-গোঁফের অনুকূলে সহনীয় ভাবে রেজার টানবেন এবং তা গাল ও থুতনির কাছে ওপর থেকে নিচের দিকে এবং গলার দিকে একটু সতর্কতার সঙ্গে রেজর টানবেন। কারণ দাড়ির উল্টোদিকে রেজর না চালানোই ভাল। ত্বক শুকানোর পর আফটার শেভ লোশন ব্যবহার করবেন। সাধারণত ভরাট গালে ব্লেড সহজে ঘোরাফেরা করে, তাই কাটার আশঙ্কাও বেশি থাকে। এক্ষেত্রে যাদের গালের চোয়াল কিছুটা ভাঙা তাদেরও রেজর টানা উচিত একটু ধীরে। যদি পারেন, সিঙ্গেল ব্লেড দিয়ে নয়, শেভিংয়ের ক্ষেত্রে ট্রিপল ব্লেড ব্যবহার করা ভালো তা নিরাপদও। শেভিংয়ের পর মুখে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম লাগাবেন। অ্যান্টিসেপটিক দিয়ে ধুয়ে মুখে আফটার শেভ লোশন লাগাতে পারেন। মনে রাখবেন, যেন ঘুম থেকে উঠেই শেভ করবেন না, কমপক্ষে এক ঘণ্টা পর শেভ শুরু করবেন।বর্তমানে অনেক মেনস পারলারে বা নানা রকমের ওয়্যাক্সিং ও থ্রেডিং–সেবা দেওয়া হয়। তবে ইচ্ছে করলে ঘরেও এগুলো করতে পারেন। সাধারণত বাজারে পাওয়া যায় অনেক ধরনের হেয়ার রিমুভাল ক্রিম। অনেকেই আছেন, যারা স্থায়ী সমাধান পেতে লেজারের সাহায্য নিয়ে থাকেন।
আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে পানি পান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর
পরিশেষে আজকের সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী বিষয়ক আর্টিকেল থেকে আপনারা কীভাবে সেভ করলে নিরাপদ থাকা যায়, রেজার কিভাবে ব্যবহার করলে ত্বকে কোন ক্ষত সৃষ্টি হবে না, কোন রেজার ব্যবহারে ত্বকের ক্ষতি কম হবে, ত্বক কিভাবে পরিস্কার রাখার উপায় সহ এমন অনেক কিছুই আপনারা জানতে পারলেন। সুতরাং এতোক্ষণ সেভ করতে যে নিয়মগুলো জানা জরুরী বিষয়ক আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url