প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান (Location of birds according to nature)
সারা বিশ্বে বিভিন্ন প্রজাতির, বিভিন্ন আকার-আকৃতির পাখি আমরা দেখে থাকি, এদের অনেকের আমরা নাম জানি আবার বেশির ভাগই নাম জানিনা। তাই প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান জানতে লেখাটি অবশ্যই পড়ুন।
প্রকৃতি যেমন নিজ স্ব-মহিমায় এবং নানা বৈচিত্র্যতায় পরিপূর্ণ, ঠিক তেমনি পাখিরাও নানা বৈচিত্রে ভরপুর। সুতরাং পাখিদের আচরণ, শ্রেণী বিভাগ, স্বভাব সর্বোপরি প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান জানতে পারবেন আজকের আর্টিকেলে থেকে।
=== নীচের যে অংশটি পড়তে ক্লিক করুন ===
পোস্ট সূচিপত্র: প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান
পাখির ধরণ:
পৃথিবীতে নানা প্রজাতির পাখি রয়েছে। প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান, অর্থাৎ কোন পাখি উড়তে পারে, কোনটি তা পারে না; আবার কোন পাখি হিমবাহ বা বরফে আচ্ছাদিত এলাকায় থাকে, আবার কোনটি থাকে নদীর ধারে বা সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাস করে। কোন পাখি শুধু আকাশেই উড়ে বেড়ায়, আবার কোন পাখি জলে সাঁতার কাটে।
উড়তে পারেনা যে পাখি:
সাধারণত উটপাখি যে উড়তে পারে না, সেটা আমরা সবাই জানি। আর এই উড়তে না পারার দুঃখ ভুলতে পাখিটি দ্রুতগতিতে দৌড়াতে পারে।জলের মধ্যে থাকে যে পাখি:
সাধারণত জলের মধ্যে যে পাখিগুলো থাকে, তারা হলো: হাঁস, রাজহাঁস, বক, কাস্তেচরা, পানকৌড়ি, ডাহুক, জলমোরগ, চখাচখি, গাংচিল, কালেম, জলপিপি, অজগর বক, পেলিক্যান, ফ্লেমিঙ্গোগেমবার্ড বা শিকারযোগ্য পাখি:
প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান এর কিছু পাখি আছে, যাদেরকে গেমবার্ড বা শিকারযোগ্য পাখি বলা হয়, অর্থাৎ যাদেরকে বিভিন্ন দেশে শিকার করা হয় খাওয়ার জন্য বা ক্রীড়ামূলক শিকারের জন্য। এই পাখিগুলো সাধারণত স্থলচর বা জলচর হয়ে থাকে। তবে বর্তমানে অনেক দেশে এই পাখিদের শিকার আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত বিশেষ করে বিলুপ্ত প্রায় বা সংরক্ষিত প্রজাতির ক্ষেত্রে।স্থলচর গেমবার্ড : তিতির, বটেরা, ময়ুর, লাল জঙ্গল মুরগি, টার্কি, হরিয়াল, গিনিফাউল ইত্যাদি।
জলচর গেমবার্ড : হাঁস, রাজহাঁস, ডাহুক, চখাচখি, জলমোরগ ইত্যাদি।
ঠান্ডা অঞ্চলের গেমবার্ড : টেট্রাগন, ফেজেন্ট ইত্যাদি।পার্চিং বার্ডস বা গায়ক পাখি :
প্যাঁচার প্রজাতিসমূহ :
আকাশে উড়ে ও দীর্ঘ সময় কাটানো পাখি:
জলচর গেমবার্ড : হাঁস, রাজহাঁস, ডাহুক, চখাচখি, জলমোরগ ইত্যাদি।
ঠান্ডা অঞ্চলের গেমবার্ড : টেট্রাগন, ফেজেন্ট ইত্যাদি।
নদী ও সমুদ্র উপকূলের পাখিসমূহ :
সাধারণত নদী বা সমুদ্র উপকূলের আশেপাশে বসবাসকারী এবং খাবার সংগ্রহকারী কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাখি বসবাস করে থাকে। এরা মাছ খেয়ে জীবন কাটায়।
নদীর পাখি : বক, পানকৌড়ি, কালেম বা মাছরাঙা, ডাহুক, জলপিপি, রাজহাঁস, চখাচখি হাঁস, বালি হাঁস, কাস্তেচরা ও অজগর বক ইত্যাদি।
আরও পড়ুন: বয়ঃসন্ধিকালে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধান
সমুদ্র উপকূলের পাখি : গাংচিল, শঙ্খচিল, ধূসর বাটান, অবাবিল, ফ্লেমিঙ্গো, পেলিক্যান, চরকুড়ালি, সামুদ্রিক ঈগল, লাল ঠোঁটওয়ায়া চররুট এবং কালো মাথা চিল।
এক পায়ে দাঁড়ানো পাখিসমূহ :
প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান বা আচরণ অনুযায়ী সাধারণত ফ্লেমিঙ্গো-কে একপায়ে দাঁড়ানো পাখি বলা হয়ে থাকে। তবে এই কাতারে অন্যান্যদের মধ্যে আছে বক জাতীয় পাখি, রাজহাঁসের কিছু প্রজাতি ইত্যাদি। যেমন-ফ্লেমিঙ্গো। বক জাতীয় পাখি, বক, কাজেচরা, রাজহাঁস, হাঁসের কিছু প্রজাতিসমূহ। তবে ফ্লেমিঙ্গো পাখি এক পায়ে দাড়িয়ে থাকে, তার কারণ-শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে, শক্তি সঞ্চয়ের জন্য এবং পানিতে নিজেকে স্থির রাখতে।পার্চিং বার্ডস বা গায়ক পাখি :
সাধারণত পার্চিং বার্ডস হলো সেই পাখি যারা
গাছের ডাল বা উঁচু স্থানে বসতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে। যেমন-দোয়েল,
শালিক, বুলবুলি, টিয়া ও ঘুঘু। তবে অরণ্যের পার্চিং বার্ড হলো ফিঞ্চ,
পঁ্যাচা ঠোঁটী, ক্যাঁচা, নীলকণ্ঠ, কোকিল। এ ছাড়াও খোলা মাটের পার্চিস
বার্ডসগুলি চড়ুই, মুনিয়া, খঞ্জনা, বৈদ্যপাখি ও খাসফড়িং।
প্যাঁচার প্রজাতিসমূহ :
প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান এর মধ্যে যেমন-প্যাঁচা একটি পাখি প্রজাতির প্রাণী। আর সাধারণত রাতে এরা শিকার করে-এটা আমরা সবাই জানি। বিশ্বে প্যাঁচার কিছু প্রজাতি রয়েছে। যেমন-বাংলাদেশ ও ভারতে যে প্যাঁচাগুলো দেখতে পাওয়া যায়, তা হলো: খাটো কানওয়ালা, লাল মুখো, বাদামি মাছুম, চোখা ডানা, জঙ্গলের ধূসর, রাজ্য প্যাঁচা সমূহ ইত্যাদি। তবে বিশ্বের কিছু বিখ্যাত প্যাঁচাও আছে। যেমন-তুষার প্যাঁচা, গ্রেট হর্নড প্যাঁচা, বেঁটে প্যাঁচা ইত্যাদি।
আরও পড়ুন: বাংলা ও ইংরেজিতে ১০০টি ফুলের নামের তালিকা এবং কোন কোন ফুলগুলো দেশি ও বিদেশি
তোতা পাখি: এই পাখিটি মানুষের কণ্ঠস্বর হুবহু অনুকরণ করার ক্ষমতা রাখে এবং সেইসঙ্গে এই প্রাণীটি পোষ্য হিসেবে আমাদের নিকট অত্যধিক প্রিয়।
আকাশে উড়ে ও দীর্ঘ সময় কাটানো পাখি:
প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান এর মধ্যে কিছু পাখি আছে যারা প্রায় পুরো জীবনটাই আকাশে কাটায়, উড়ন্ত অবস্থায় ঘুমায়, খায় এবং বিশ্রাম নিয়ে থাকে। যেমন-পাতি আবাবিল, পাহাড়ি আবাবিল, ফ্রিগেট পাখি, অ্যালবাট্রস, কাটা লেজ আবাবিল ইত্যাদি। এদের মধ্যে কিছু শিকারি পাখি আছে, যেমন-শঙ্খচিল, গৃহ চিল, সামুদ্রিক ঈগল, গোল্ডেন ঈগল। এ ছাড়াও সমুদ্র ও উপকূলীয় অঞ্চলের পাখিগুলো গাংচিল, বড় সারস, বক ইত্যাদি।
সুইফট পাখি : এই পাখিগুলো সাধারণত উড়ে উড়ে পোকামাকড় আর মাছি শিকার করে থাকে। এরা খুব দ্রুত উড়তে পারে বলে সুনাম রয়েছে।
পেঙ্গুইন : পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে পেঙ্গুইন পাখির দেখা মিলে। এই পাখি উড়তে পারে না। তবে এরা পানিতে মাছের মতো সাবলীলভাবে সাঁতার কেটে শিকার করে থাকে।
প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান- শেষ কথা:
আজকের প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান বিষয়ক আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পারলেন, বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী পাখি, তাদের বিভিন্ন প্রজাতি, আকার-আকৃতি, ধরণ এই সকল বিষয়ে। আশা করছি আজকের পোস্ট প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান থেকে আপনারা বিভিন্ন স্থানে বসবাসকারী পাখির সম্বন্ধে অনেক কিছু জানতে পারলেন, তারপরেও যদি আরো কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন এবং এরকম আরো তথ্য মূলক আর্টিকেল পেতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করুন ধন্যবাদ।
আরও পড়ুন: ইঁদুরের বিচিত্র জীবন সম্পর্কিত তথ্যাবলী
পরিশেষে আজকের প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান বিষয়ক আর্টিকেল থেকে আপনারা পাখির ধরন, বিভিন্ন স্থানে বসবাস করা পাখির বর্ণনা, নদী ও সমুদ্র তটে অবস্থিত পাখিসমূহ, এক পায়ে দাঁড়ানো পাখি ইত্যাদি বিষয়সহ এমন অনেক কিছুই আপনারা জানতে পারলেন। সুতরাং এতোক্ষণ প্রকৃতির ধরণ অনুযায়ী পাখিদের অবস্থান বিষয়ক আর্টিকেলটি পড়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url