ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? (What are the benefits of eating capsicum?)
ক্যাপসিকাম স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী একটি খাদ্য। বলা যায়, ক্যাপসিকাম শুধু খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করেনা, এটি স্বাস্থ্যেরও অনেক উপকার করে থাকে। দেখে নিন ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী?
আসলে ক্যাপসিকাম দেখতে অনেকটা মরিচের মতো, কিন্তু মজার বিষয় হলো এটি খেতে কিন্তু একেবারেই মরিচের ন্যায় ঝাল নয়। তাই ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? সম্বন্ধে জানতে আর্টিকেলটি পড়ুন।
নীচের যে অংশবিশেষ পড়তে চান, তা ক্লিক করুন:
ক্যাপসিকাম খেতে কেমন?
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? আলোচনায় আগে জানতে হবে ক্যাপসিকাম খেতে কেমন? অর্থাৎ অনেকেই আছেন, যারা ক্যাপসিকামের নাম শুনে থাকলেও খেয়ে দেখেননি। আসলে ক্যাপসিকাম খেতে অনেকটাই মিষ্টির মতো।আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত
তবে যে কোনো খাবারের মধ্যে দিয়ে রান্না করলে খাবারের মান অনেকগুণেই বেড়ে যায়। তবে বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন, যেন কোন খাবারের মধ্যে ক্যাপসিকাম দিয়ে রান্না করলে তা যেন দীর্ঘক্ষণ সিদ্ধ করা না হয়, তাহলে এর স্বাদ অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
ক্যাপসিকাম খাওয়ার নিয়মাবলীসমূহ:
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? এর মধ্যে ক্যাপসিকাম খাওয়ার নিয়মাবলীটি জানা খুবই জরুরী। যারা বিভিন্ন হোটেল বা ফাস্টফুডের দোকানে গিয়ে বিভিন্ন খাবারের সাথে ক্যাপসিকাম খেয়ে থাকেন, তারা জানেন না যে ফাস্টফুডে ক্যাপসিকাম খেলে তেমন একটা উপকার পাওয়া যায় না। কিন্তু যদি আপনি বাড়িতে নুডলস, বিরিয়ানি, স্যুপ, সালাদ, ফ্রাইড রাইস, এগ রাইস বা বিভিন্ন তরকারিসহ আপনার পছন্দের যে কোন খাবারের মধ্যে দিয়ে আপনি ক্যাপসিকাম খেতে পারেন সেটা অনেকটাই স্বাস্থ্যসম্মত বা রুচিসম্মত হয়ে থাকে। অবশ্য একটা বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে, ক্যাপসিকাম যে কোন তরকারিতে মিশানোর পর তা যেন দীর্ঘক্ষণ ধরে ফুটানো বা সিদ্ধ করা যাবেনা, কারণ এতে করে ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ অনেকটা কম বা নষ্ট হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে ভালো হলো এটি খালি মুখে চিবিয়ে খাওয়া অথবা সালাদের সাথে খাওয়া।ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী?
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? তা জানতে-=> সাধারণত ক্যাপসিকামে প্রচুর পরিমাণে সি, এ ও কে ভিটামিন থাকে। আর আমরা জানি যে, ভিটামিন সি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং সেইসঙ্গে শরীরের আয়রন শোষণ করতেও সহায়তা করে থাকে। ঠিক তেমনি ভিটামিন এ চোখের জন্য এবং ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।
আরও পড়ুন: অ্যাভোক্যাডো ফলের উপকারিতা ও গুনাগুণ
=> ক্যাপসিকামে শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট থাকায় তা দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিকাল থেকে রক্ষা করে এবং সেইসঙ্গে বার্ধক্য প্রতিরোধের সহায়তা করে থাকে।
=> ক্যাপসিকাম কম ক্যালোরিযুক্ত ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ার ফলে পেট ভরা রাখে এবং এর ফলে খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়।
=> ক্যাপসিকাম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
=> ক্যাপসিকামে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।
=> ক্যাপসিকাম খাওয়াতে উজ্জ্বল ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
=> ক্যাপসিকাম ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়কা ভূমিকা পালন করে।
=> এ ছাড়াও ক্যাপসিকামে মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
অপকারিতা:
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? এর মধ্যে আবার বিভিন্ন অপকারিতাও রয়েছে, যা নিম্নে বর্ণিত হলো:যাদের এলার্জিজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ক্যাপসিকাম না খাওয়াই ভালো।
ক্যাপসিকাম খুব বেশী পরিমাণে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে।
ক্যাপসিকাম খুব বেশী পরিমাণে খেলে পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
আবার তা পরিমাণের তুলনায় যদি বেশি খান তাহলে সর্দি ও ঘামের সমস্যা হতে পারে।
ক্যাপসিকাম খুব বেশী পরিমাণে খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়ে থাকে।
ক্যাপসিকাম খুব বেশী পরিমাণে খেলে পেট ব্যথা বা ডায়রিয়া হতে পারে।
আবার তা পরিমাণের তুলনায় যদি বেশি খান তাহলে সর্দি ও ঘামের সমস্যা হতে পারে।
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী?-শেষ কথা:
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? বিষয়ক আলোচনায় বলা যায়, ক্যাপসিকাম অনেক রঙের হয়ে থাকে, যেমন-লাল, সবুজ, হলুদ, কমলা, পারপল ইত্যাদি। এদের মধ্যে সবুজ ক্যাপসিকাম হলো
সবচেয়ে তেতো, সবুজ ও হলুদ রঙের ক্যাপসিকাম দুটোই ভাজা সুস্বাদু রেসিপিতে
ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তবে কমলা এবং লাল জাতীয় ক্যাপসিকাম সালাদ জাতীয় খাদ্যে
ব্যবহৃত হয়ে থাকে এবং গ্রীষ্মকালীন সময়ে এটি বেশি মিষ্টি হয়ে থাকে। ক্যাপসিকাম সাধারণত মাইগ্রেন, সাইনাস, ইনফেকশন, দাঁতে ব্যথা ইত্যাদি ব্যথা
দূর করতে কাজ করে।
আরও পড়ুন: জাঙ্ক ফুড কি - জাঙ্ক ফুডের ক্ষতিকর দিকসমূহ
ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? অপকারিতা, বিভিন্ন প্রকার বৈশিষ্ট্য,
রঙ, কিভাবে বা কোন প্রকারে তা খাওয়া যায় ইত্যাদি বিষয়গুলো সম্পর্কে
বিস্তারিত
আলোচনা করা হয়েছে। প্রিয় বন্ধুরা আশা করি আপনারা উক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে
জানতে পেরেছেন।
ক্যাপসিকামের বিভিন্ন বিষয় আপনাদের জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। পরিশেষে আশা করি আজকের ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? আর্টিকেল থেকে আপনারা ক্যাপসিকামের অনেক বিষয়ে জানতে পেরেছেন। আমাদের সাথে ধৈর্য্য ধরে থাকার আপনাকে অনেক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি।
__________________________________________________________________________
বিঃদ্রঃ-ক্যাপসিকাম খাওয়ার উপকারিতা কী কী? শুধুমাত্র সচেতনার জন্য প্রকাশিত, কোনও ওষুধ বা চিকিৎসাপত্র সংক্রান্ত নয়। বিস্তারিত তথ্যের জন্য আপনি আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে অবশ্যই পরামর্শ করবেন।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url