একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? (What are the obstacles for a New Freelancer?)
বর্তমানে ফিল্যান্সিং একটি স্মার্ট প্রফেশন, যাতে অধিকাংশ শিক্ষিত যুব সমাজই যুক্ত। কিন্তু দেখা যায়, অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার কাজ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যে তারা হতাশ হয়ে যায়। তাই, একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? বিষয়টি জানাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এক্ষেত্রে বলা যায়, যেমন-কাজের ধরন বদলাচ্ছে এবং সেইসঙ্গে বাড়ছে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা ও প্রতিযোগিতা। বর্তমানে অনেক তরুণই এখন ফ্রিল্যান্সার হতে চান। সুতরাং একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? এ জানাটা খুবই জরুরী।
পোস্ট সূচিপত্র: একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী?
মূলত ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে খুব তাড়াতাড়ি উপার্জন শুরু করার মানসিকতা, প্রচুর ধৈর্য্যধারণ, সময়ানুবর্তিতা, দক্ষতা ইত্যাদি নানারকম সমস্যাবলীর সীমাবদ্ধতায় বর্তমানে ফ্রিল্যান্সরা খুব অল্প সময়েই হতাশ হয়ে পড়েন। তাই একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? সে বিষয়গুলি নিম্নে বর্নিত আলোচনা থেকে জানতে পারবে।
ফ্রিল্যান্সিং-এ ব্যর্থ হওয়ার কারণগুলি নিম্নরূপ:
সারা পৃথিবীতেই কাজের ধরন বদলাচ্ছে, বদলাছে বিশ্ব, বদলাছে মানুষের দৈনন্দিন বিভিন্ন চাহিদা এবং এর সাথে প্রতিনিয়তই বাড়ছে ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা। অনেক উদীয়মান মেধাবী, কর্মঠ, নিষ্ঠাবান তরুণই এখন ফ্রিল্যান্সার হতে চান। কিন্তু সবাই কি সফল হন? একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? অনেকেই আছে, যারা ফ্রিল্যান্সিং শুরু করেও অনেকে কিছুদুর পর্যন্ত এগিয়ে তারপরে হতাশ হয়ে পড়ে? সুতরাং একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? বা ঘাটতি কি? সে সকল বিষয়ে জানার জন্যেই আজকের আর্টিকেলটি সাজানো হয়েছে।
দক্ষতা তৈরিতে ঘাটতি:
একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? বলতে ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হতে হলে প্রথমেই আপনার নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে অবশ্যই জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক সময় দেখা যায় কেউ কেউ সব বিষয়েই দক্ষতা অর্জন করতে চায়। মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং করতে গেলে সব বিষয়ে দক্ষ হওয়ার প্রয়োজন নেই। ধরে নিতে পারেন, এই ধরণের চিন্তা-ভাবনা ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ।আরও পড়ুন: মানুষ একাকীত্বে ভোগে কেন - কখন মানুষ একাকীত্ব বোধ করে
আসলে ফ্রিল্যান্সিং শুরু করতে হলে অন্ততপক্ষে দু–একটি দক্ষতা আপনার থাকাই লাগবে বা ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে এবং আপনি যে বিষয়ে ফিল্যান্সিং করতে চান তার সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো জানা থাকতে হবে। যেমন ধরুন আপনি গ্রাফিক্স ডিজাইনার হিসেবে লোগো তৈরী করতে চান বা ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে এই চর্চাটাই ভালোভাবে রপ্ত করতে হবে। অর্থাৎ এই বিষয়ে আপনাকে বিশেষজ্ঞ বা এক্সপার্ট হয়ে উঠার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি আপনার কাছে যে বিষয়গুলো মনে হতে পারে আপনি পারবেন বা বুঝবেন সে বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে।
কিছু না বুঝে-শুনে শুরু করা:
একটা কথা প্রায়ই শুনে থাকবেন, ফ্রিল্যান্সিং করে মাসে লাখ টাকা আয় করা যায়। কিন্তু কীভাবে? এই চটকদার খবরটি শুনেই অনেকেই স্বপ্ন দেখে ফেলেন এবং পা বাড়ান এই পথে। সবথেকে মজার বিষয় হলো, তারা তাদের কোনো রকম দক্ষতা বিবেচনা না করেই কাজে নেমে পড়েন। অথচ একবারও ভাবেন না যে, কাজটা আমি শুরু করতে যাচ্ছি, সে বিষয়ে আমার আগ্রহ, আমার দক্ষতা বা আমার প্যাশন আছে কি-না। ফলশ্রুতিতে যখন মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট করে রাতের পর রাত জেগেও যখন কাজ না পাওয়া যায়, তখন অবশ্য হাল ছেড়ে দেন। এখানে আসল সমস্যা হলো একটা কাজে যদি আপনার নিজের আগ্রহ না থাকে, তাহলে সেখানে যতই লাখ টাকার হাতছানি থাকুক না কেন, খুব বেশি এগোনো কি যায়? সুতরাং এরকম ক্ষেত্রে অবশ্যই আগে ভালোমতো খোঁজ-খবর নিয়ে এবং দক্ষতা অর্জন করেই এগোনো উচিত।
সংশ্লিষ্ট কাজে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া:
একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় না দেয়া। অর্থাৎ লোক মুখে প্রচলিত বা অনেকেই শুনে থাকবেন, ফ্রিল্যান্সিং-এ পার্ট টাইম বা খন্ডকালীন কাজ করা যায়। কিন্তু আদৌতে কী তাই? আসলে ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা। অর্থাৎ এই সেক্টরে আপনাকে সফল হতে হলে অবশ্যই যথেষ্ট সময় দিতে হবে। প্রথমত কাজ খোঁজা, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা থাকা এবং পরিশেষে কাজ সম্পন্ন করা, অর্থাৎ এত কিছুর জন্য আসলে অনেক সময় প্রয়োজন। আপনি যদি মনে করেন অল্প সময় দিয়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে আপনার ভাবনাটাই ভুল! কারণ ফ্রিল্যান্সিং মানে মুক্ত পেশা খাত, সেটা ঠিক আছে, কিন্তু এর পাশাপাশি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে অবশ্যই সময়মতো ক্লায়েন্টের কাজ শেষ করতে হবে। আসলে মূল ব্যাপারটা হলো, ফ্রিল্যান্সিং যে শুধু আপনি একাই করছেন তা কিন্তু নয়, একই সময়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে ফ্রিল্যান্সরা কাজ করছেন। সুতরাং সময় নিয়ে হেলাফেলা করলে কখনোই সফল হওয়াতো যাবেই না তদুপরি ক্লায়েন্টও হারিয়ে ফেলবেন। তাই কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন, প্রতিদিন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন।
সংশ্লিষ্ট কাজে পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া:
একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? হচ্ছে পর্যাপ্ত সময় না দেয়া। অর্থাৎ লোক মুখে প্রচলিত বা অনেকেই শুনে থাকবেন, ফ্রিল্যান্সিং-এ পার্ট টাইম বা খন্ডকালীন কাজ করা যায়। কিন্তু আদৌতে কী তাই? আসলে ফ্রিল্যান্সিং হলো একটি পূর্ণাঙ্গ পেশা। অর্থাৎ এই সেক্টরে আপনাকে সফল হতে হলে অবশ্যই যথেষ্ট সময় দিতে হবে। প্রথমত কাজ খোঁজা, ক্লায়েন্টের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, ভাষা সম্পর্কে দক্ষতা থাকা এবং পরিশেষে কাজ সম্পন্ন করা, অর্থাৎ এত কিছুর জন্য আসলে অনেক সময় প্রয়োজন। আপনি যদি মনে করেন অল্প সময় দিয়েই ফ্রিল্যান্সিংয়ে সফল হওয়া সম্ভব, সেক্ষেত্রে আপনার ভাবনাটাই ভুল! কারণ ফ্রিল্যান্সিং মানে মুক্ত পেশা খাত, সেটা ঠিক আছে, কিন্তু এর পাশাপাশি আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে অবশ্যই সময়মতো ক্লায়েন্টের কাজ শেষ করতে হবে। আসলে মূল ব্যাপারটা হলো, ফ্রিল্যান্সিং যে শুধু আপনি একাই করছেন তা কিন্তু নয়, একই সময়ে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রাপ্ত থেকে ফ্রিল্যান্সরা কাজ করছেন। সুতরাং সময় নিয়ে হেলাফেলা করলে কখনোই সফল হওয়াতো যাবেই না তদুপরি ক্লায়েন্টও হারিয়ে ফেলবেন। তাই কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখুন, প্রতিদিন ফ্রিল্যান্সিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করুন।মার্কেটিং করতে হবে এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে:
আরেকটি বিষয়ে খেয়াল করতে হবে যে, একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? অর্থাৎ নিজের ওপর বিশ্বাস। আসলে ফ্রিল্যান্সিং লাইনে কাজ করতে হলে, প্রথমেই আপনাকে নিজের ‘মার্কেটিং’ নিজেকেই করতে হবে, অর্থাৎ যাকে আমরা বলি ‘পারসোনাল ব্র্যান্ডিং’ বা নিজের ঢোল নিজেই পেটানো। আপনি আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কথা ক্লায়েন্টদের জানাতে হবে। সম্ভব হলে নিজের একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (যেমন-ফেসবুক, ইন্সট্রাগ্রাম, লিংকদিন, ড্রিবল ইত্যাদি) সক্রিয় থাকতে হবে। সর্বোপরি বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্ম যেমন-ফাইবার, আপওয়ার্ক, লেজিট ইত্যাদিতে আপনার প্রোফাইল তৈরি করতে হবে। আপনি যদি নিজের মার্কেটিং নিজে করতে না পারেন, তাহলে ক্লায়েন্টদের কাছে পৌঁছানোই কঠিন হবে।
আরও পড়ুন: রকেট কাস্টমার কেয়ার নাম্বার-রকেট কাস্টমার কেয়ার লাইভ চ্যাট
আপনাকে অবশ্যই নিজের দক্ষতা ও কাজের ওপর বিশ্বাস থাকতে হবে। যখন আপনাকে ক্লায়েন্টের সঙ্গে কথা বলার সময় বা কাজ করার সময় যদি আত্মবিশ্বাসের অভাব থাকে, তাহলে আপনি ভালো ফল পাবেন না, ক্লায়েন্টও হারিয়ে ফেলবেন। তাই অবশ্যই আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, মনে রাখবেন, ছোট কাজ দিয়ে শুরু করুন এবং আস্তে ধীরে বড় কাজে হাত দিন। সর্বোপরি, প্রয়োজনে যারা সফল ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পরিচিত তাদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিন বা যোগাযোগ করুন।
সময়, ধৈর্য্য এবং কঠোর পরিচর্যা করুন:
ফ্রিল্যান্সিংয়ে শুরুটা অনেক কঠিন হতে পারে। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? হিসেবে প্রথম প্রথম কাজ পেতে আপনাকে প্রচুর ধৈর্য্য ধারণ এবং সময় অর্জনের মাধ্যমে ক্লায়েন্টের আস্থা অর্জন করতে হবে। সুতরাং এই সময়টাতে আপনাকে ধৈর্যসহ পাশাপাশি চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। মনে রাখবেন, অল্পতেই যদি হাল ছেড়ে দেন, তাহলে সফল হওয়ার পথটা আপনার জন্যে অনেক কঠিন হবে। আবার অনেকের ক্ষেত্রেই এমনটা দেখা গেছে যে, একদম হাল ছেড়ে দেওয়ার আগমুহূর্তে কাজ পেয়েছেন এবং ঘুরেও দাঁড়িয়েছেন। সতর্ক থাকবেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপন আপনাদের ভুল ধারণা দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে। সাধারণত আমরা কী ভাবি যে, ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মে একটি অ্যাকাউন্ট খুললেই আয় করা যায়। আসলে সেটা সঠিক নয়। ধৈর্য ধরে একটার পর একটা চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। খেয়াল করবেন, আপনার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে এবং ভুলগুলো শুধরিয়ে পরবর্তীতে উন্নতি করার চেষ্টা করতে হবে।একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? - পরিশেষে:
সুতরাং শুধু শুধু ঘরে বসে শুধু চিন্তা-ভাবনা, কল্পনা না করে গ্লোবোলাইজেশন ভিলেজে
অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন বিভ্রান্তিমূলক তথ্য থেকে বিরত থেকে নির্দিষ্ট কাজে দক্ষতা অর্জন করুন, ধৈর্য্য, সময়, দক্ষতা এবং কঠোর অনুশীলন শুরু করুন। একজন ফ্রিল্যান্সার হওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই নির্দিষ্ট কাজে আপনাকে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করতে হবে। মনে রাখবেন, অনলাইনে অর্থ উপার্জনের জন্য আপনার ভিতরে যে সুপ্ত মেধা, জ্ঞান এবং
দক্ষতা আছে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন এবং একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? বিষয়গুলো ভালো বোঝার চেষ্টা করুন।
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট চেকিং করার নিয়ম - পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে পাসপোর্ট চেক
একটা জিনিস সবসময় মাথায় রাখবেন প্রতিটা শুরুই
একটি বিশাল বাধা, বিশাল সংগ্রাম, বিশাল জার্নি। কিন্তু এর মধ্যে যে ব্যক্তি ধৈর্য্য ধারণ
করতে পারে সেই সিকান্দার হয়। ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং পারলে কমেন্টস করবেন। এতোক্ষণ আমাদের সাথে একজন নতুন ফ্রিল্যান্সারের বাধাসমূহ কী? বিষয়ক আর্টিকেলে যুক্ত থাকার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url